হিসাব সমীকরণ

লেনদেন লিপিবদ্ধকরণের একটি প্রক্রিয়া হল হিসাব সমীকরণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন কে দ্বৈতসত্তার(দুই তরফার) নীতি অনু্যায়ী বিশ্লেষণপূর্বক একটি খাতকে ডেবিট ও আরেকটি খাতকে ক্রেডিট চিহ্নিত করে লিপিবদ্ধ করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি লেনদেন এর জন্য যে পরিমাণ টাকা ডেবিট করা হয় ঠিক সেই টাকা ক্রডিট করা হয়। লেনদেনের এই দ্বৈতসত্তার উপর নির্ভর করে আধুনিক হিসাবশাস্ত্রবিদগণ হিসাবসমূহের মধ্যে একটি গাণিতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন যা হিসাব সমীকরণ নামে পরিচিত।

এই সমীকরণটির মূল কথা হল একটি প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পত্তির পরিমাণ এবং ঐ সকল সম্পত্তির উপর বিভিন্ন পক্ষের মোট দাবি বা মোট স্বত্বাধিকারের পরিমাণ সমান হবে। নিচে সমীকরণটি দেওয়া হল।

A=L+OE এখানে,
                      A = Assets(সম্পত্তিসমূহ)
                      L= Liabilities(দায়মূহ)
                      OE = Owner's Equity(মালিকানা স্বত্ব)
OE এর ভিতর অন্তর্ভুক্ত থাকে মালিকের মুলধন, আয়, ব্যয় ও মালিকের উত্তোলন।
অর্থাৎ মালিকানা স্বত্ব= মূলধন +আয়-ব্যয়-উত্তোলন।
বা OE=C + R - E - D
        এখানে, C=capital(মূলধন )
                      R = Revenues(আয় সমূহ)
                      E = Expenses( ব্যয় সমূহ)
                      D = Drawing (উত্তোলন)
এখন সমীকরণ টা হল A = L + (C + R - E - D) নিচের দুইটি লেনদেন এর মাধ্যমে হিসাব সমীকরণ টা দেখানো হল।

1. নগদে পণ্য ক্রয় করা হল ৩০০০ টাকা
2. নগদে পণ্য বিক্রয় করা হল ৫০০০ টাকা
লেনদেনটির দুই তরফা দাখিলা
1. ☑ ক্রয় হিসাব -------- ডেভিড (৩০০০৳)
    ☑ নগদান হিসাব ---- ক্রেডিট (৩০০০৳)
2.☑ নগদান হিসাব -------- ডেভিড (৩০০০৳)
☑বিক্রয় হিসাব ---- ক্রেডিট (৩০০০৳)
A = L + OE (C + R - E - D)
- 3000 (নগদ) =               - 3000 (ব্যয়)
5000 (নগদ) =               5000 (আয়)
২০০০(A) = ২০০০ (L+OE)

এখানে নগদ হল একটি সম্পত্তি, ক্রয় হল কারবারের ব্যয়(খরচ) ও বিক্রয় হল আয়।

প্রথম লেনদেনে, পণ্য ক্রয় করায় নগদ চলে গেছে, অর্থাৎ সম্পত্তি হ্রাস পেয়েছে। সম্পত্তি থেকে ঐ টাকাটা বিয়োগ হবে। অপরদিকে ব্যয় কমে যাওয়ায় মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পেয়েছে। মালিকানা স্বত্বে একই পরিমাণ টাকা মালিকানা স্বত্ব থেকে একই পরিমাণ টাকা বিয়োগ হবে।

দ্বিতীয় লেনদেনে, পণ্য বিক্রয় করায় নগদ টাকা আসছে, অর্থাৎ ব্যবসায়ে সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্পত্তির সাথে টাকাটা যোগ হবে। অপরদিকে ব্যবসায়ে আয় এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানে, মালিকানা স্বত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। মালিকানা স্বত্বের সাথে একই পরিমাণ টাকা যোগ হবে।

এখানে, মোট সম্পত্তি ২০০০ টাকা ও মোট দায় ও মালিকানা স্বত্ব ২০০০ টাকা। উভয় দিকের টাকা সমান হয়েছে। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সকল লেনদেন এই সমীকরণে সমান থাকবে। অর্থাৎ মোট সম্পত্তি হল দায় ও মালিকানা স্বত্ব যোগফলের সমান হয়।