হিসাব সমীকরণের উপদানের প্রভাব

হিসাব সমীকরণের উপাদানের প্রভাব।

আমরা জানি হিসাব সমীকরণের গাণিতিক হিসাব টি হল,
            A = L + OE
যেহেতু, OE= C - R - E - D
       বা, A = L + (C + R - E - D)
এখানে,
     A = Asset (সম্পত্তি)
     L = Liabilitie (দায়)
     OE = owner's Equity (মালিকানা স্বত্ব)
     C = Capital (মূলধন)
     R = Revenue (আয়)
     E = Expense (ব্যয়)
     D = Drawing (উত্তোলন)
এখানে A, L, OE, C, R, E, D এগুলো হলো সমীকরণের উপাদান। ব্যবসায়ে কোনো লেনদেনের ফলে এই উপাদান গুলোর উপর যে পরিবর্তন হয় তাকে হিসাব সমীকরণে উপাদানের প্রভাব বলে।
উদাহারন সরূপঃ বেতন প্রদান করা হল ১০০০০০ টাকা। এখানে বেতন প্রদান এর ফলে ব্যবসায়ে নগদ টাকার পরিমাণ কমে গেছে ও ব্যবসায়ের খরচের পরিমাণ কমে গেছে। অর্থাৎ ঐ লেনদেনের ফলে সম্পদ(নগদ) হ্রাস পেয়েছে ও মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পেয়েছে। যেহেতু নগদ হল সম্পদ ও ব্যয় হল মালিকানা স্বত্ব। তাই এই লেনদেনের ফলে এই দুইটি উপাদানের পরিবর্তন হল। নিচে আরো কয়েকটি লেনদেন দেওয়া হল, সেগুলো লক্ষ করুন।
মূলধন আনয়ন ১০০০০০ টাকা।
ব্যাংকে টাকা জমা রাখা হল ৩০০০০ টাকা।
পণ্য ক্রয় করা হল ২০০০০ টাকা।
চেকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা হল ১৬০০০ টাকা।
বাকিতে পণ্য ক্রয় করা হল ৭০০০ টাকা।
মজুরি প্রদান ২০০০ টাকা।
ব্যাংক হতে টাকা উত্তোলন ১২০০০ টাকা।
ব্যবসায়ে ব্যবহারের জন্য মোটরসাইকেল ক্রয় ১২০০০০ টাকা।
যন্ত্রপাতির অবচয় ধার্য করা হল ৪০০০ টাকা।
১০বিজ্ঞাপন বাবধ খরচ হল ২০০০ টাকা।
১১বাকীতে পণ্য বিক্রয় ৭০০০ টাকা।
যদি কোনো লেনদেন না বোঝেন, টেবিলে ঐ লেনদেনের ক্রমিক নং কলামে ক্লিক করলে ঐ লেনদেনের বিস্তারিত আসবে।
ক্র: নংসংশ্লিষ্ট হিসাবহিসাব সমীকরনের প্রভাব (A=L+OE)
নগদান হিসাব
মূলধন হিসাব
(A)সম্পদ বৃদ্ধি
(OE)মালিকানাস্বত্ব বৃদ্ধি
ব্যাংক হিসাব
নগদান হুসাব
A বৃদ্ধি
A হ্রাস
ক্রয় হিসাব
নগদান হিসাব
OE হ্রাস
A হ্রাস
ব্যাংক হিসাব
বিক্রয় হিসাব
A বৃদ্ধি
OE বৃদ্ধি
ক্রয় হিসাব
পাওনাদার হিসাব
OE হ্রাস
L বৃদ্ধি
মজুরি হিসাব
নগদান হিসাব
OE হ্রাস
A হ্রাস
নগদান হিসাব
ব্যাংক হিসাব
A বৃদ্ধি
A হ্রাস
ক্রয় হিসাব
নগদান হিসাব
OE হ্রাস
A হ্রাস
অবচয় হিসাব
অবচয় সঞ্চিতি হিসাব
OE হ্রাস
A হ্রাস
১০  বিজ্ঞাপন হিসাব
নগদান হিসাব
  OE হ্রাস
A হ্রাস
১১দেনাদার হিসাব
বিক্রয় হিসাব
A বৃদ্ধি
OE বৃদ্ধি
যদি কেনো ভুল ত্রুটি থাকে আমাদের জিমেইল এ তথ্যটি জানান। যথাসম্ভব আমরা আপনার মেইলের রিপ্লাই দিব ও ভুল থাকলে সঠিক করব। Gmail:businessconcepts5@gmail.com
মূলধন আনয়ন ১০০০০০ টাকা।
এখানে মূলধন আনার ফলে ব্যবসায়ে নগদ টাকা আসল। অর্থাৎ ব্যবসায়ে নগদ টাকা বেড়ে গেল। আর নগদ টা হল একটা সম্পত্তি। তাই প্রথম অংশে A বৃদ্ধি হল।
অপরদিকে মূলধন আনার ফলে ব্যবসায়ে মূলধন বেড়ে গেল। মূলধন হল মালিকানা স্বত্বের একটি উপাদান। মূলধন বৃদ্ধি পেল মানে মালিকানা স্বত্ব বা OE বৃদ্ধি পেল।
ব্যাংকে টাকা জমা রাখা হল ৩০০০০ টাকা।
এখানে ব্যাংকে টাকা জমা রাখার ফলে ব্যবসায়ের ব্যাংক একাউন্ট এ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ A বৃদ্ধি।
অপরদিকে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে নগদ অর্থ চলে গেছে। অর্থাৎ আবার A হ্রাস পেয়েছে।
পণ্য ক্রয় করা হল ২০০০০ টাকা।
এখানে ক্রয় করার ফলে ব্যবসায়ে খরচের পরিমান কমে গেল। ক্রয় হল একটা ব্যয়। এই পক্ষে একটি প্রশ্ন হল ক্রয় (ব্যয়) করার ফলে ব্যবসায়ে খরচ বেড়ে না গিয়ে কমে গেল কেন?

ব্যয় সাধারনত দুই ভাবে করা হয়। একটি হল শখের ব্যয় আরেকটা হল প্রয়োজনীয় ব্যয়। যখন আমরা একটা প্রয়োজনীয় ব্যয় সম্পন্ন করি তখন আমাদের মনে হয় একটা বোজা থেকে কমে গেছি। মানে একটা খরচ শেষ হল অর্থাৎ একটা খরচ কমে গেল।

ঠিক তেমনি ব্যবসায়ের প্রত্যেক টা ব্যয় প্রয়োজনীয়। শখের বশেই কোনো ব্যয় হয় না। তাই ব্যবসায়ে যখন ব্যয় বা খরচ সম্পন্ন হয়ে যাবে ব্যবসায়ের ব্যয় কমে যাবে। লেনদেনটিতে ক্রয় করার ফলে ব্যয় কমে গেছে, মানে মালিকানা স্বত্ব কমে গেছে। আার ক্রয় করার ফলে ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ চলে গেল। মানে সম্পদ (A) হ্রাস পেল।
চেকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা হল ১৬০০০ টাকা।
এখানে পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ে টাকা না এসে চেক আসল। মানে টাকাটা ব্যাংকে আছে, ব্যবসায়ের ব্যাংক একাউন্ট এ টাকা বৃদ্ধি পেল ব্যাংক হিসাব টা কিন্তু সম্পদ। তাই সম্পদ( A) বৃদ্ধি পেল।
অপরদিকে বিক্রয় হিসাব টা হল আয়। একটা নতুন বিক্রয় করায় তার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আর আয় টা হল মালিকানা স্বত্বের ভিতর অন্তর্ভুক্ত তাই OE (মালিকানা স্বত্ব) বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাকিতে পণ্য ক্রয় করা হল ৭০০০ টাকা।
এখানে পণ্য ক্রয় করার ফলে ব্যবসায়ে খরচ এর পরিমান কমে গেল। তাই মালিকানা স্বত্ব (OE) হ্রাস পেয়েছে।(যেহেতু ক্রয় একটা ব্যয়)।
অপরদিকে পণ্য ক্রয় করল কিন্তু টাকা দেয় নাই। ভবিষ্যতে টাকাটা দিতে হবে। ভবিষ্যতে ব্যবসা হতে টাকা প্রদান করতে হবে, তাই এ টাকাটা ব্যবসায়ে দায় হিসাবে থাকবে। সেটাকে হিসাববিজ্ঞানে পাওনাদার বলে। এখানে ক্রয় এর ফলে দায়(L) বৃদ্ধি পেয়েছে।
মজুরি প্রদান ২০০০ টাকা।
এখানে মজুরি প্রদান হল ব্যবসায়ের খরচ। মানে ব্যবসা থেকে টাকা কমে গেল।
নগদান হিসাব (সম্পদ) হ্রাস পেল। অপরদিকে মজুরি বাবধ খরচ করার পর খরচ কমে গেল। অর্থাৎ ব্যয় হ্রাস পেল, মানে মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পেয়েছে।
ব্যাংক হতে টাকা উত্তোলন ১২০০০ টাকা।
এখানে ব্যাংক হতে টাকা আনার ফলে ব্যবসায়ে নগদ টাকা আসল। অর্থাৎ ব্যবসায়ে নগদ টাকা বেড়ে গেল। আর নগদ টা হল একটা সম্পত্তি। তাই প্রথম অংশে A বৃদ্ধি হল।
অপরদিকে ব্যাংক হতে আনার ফলে ব্যবসায়ের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা কমে গেছে। ব্যাংক ও একটি সম্পত্তি। তাই সম্পদ (নগদ) বৃদ্ধি আবার সম্পদ (ব্যাংক) হ্রাস পেল।
ব্যবসায়ে ব্যবহারের জন্য মোটরসাইকেল ক্রয় ১২০০০০ টাকা।
এখানে মোটরসাইকেল ক্রয় এর ফলে ব্যবসায়ে সম্পদ(A) বৃদ্ধি পেল।
অপরদিকে নগদ টাকা ব্যবসা থেকে টাকা কমে গেল। মানে আবার সম্পদ (A) হ্রাস পেল। এই লেনদেন টিতে ক্রয় হিসাব বা ব্যয় এ কোনো পক্ষ আসবে না। কারণ মোটরসাইকেল টা ব্যবহারের জন্য ক্রয় করল, সেটা সম্পত্তি হিসাবে থাকবে।

যদি মোটরসাইকেল টা বিক্রয়ের উদ্দেশ্য বা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য ক্রয় করত তখন মোটরসাইকেল টা সম্পত্তি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে, ক্রয় বা ব্যয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
যন্ত্রপাতির অবচয় ধার্য করা হল ৪০০০ টাকা।
যন্ত্রপাতির অবচয় মানে হল একটা নির্দিষ্ট সময়ে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে যন্ত্রের দাম কমে যাওয়া। ব্যবসায়ে ব্যবহারের মামাধ্যমে যত টাকা যন্ত্রের দাম কমে যায় তত টাকা হল ঐ যন্ত্রের অবচয়।
আর এই অবচয় টুকু ব্যবসায়ে ব্যয় হিসাবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ ব্যয় কমে গেল। মানে OE হ্রাস পেল।
অপরদিকে ব্যবসা থেকে যন্ত্রপাতি যন্ত্রপাতি কমে গেল। মানে A হ্রাস পেল।
বিজ্ঞাপন বাবধ খরচ হল ২০০০ টাকা।
যেহেতু বিজ্ঞাপন বাবধ খরচ করল। মানে ব্যবসা থেকে টাকা কমে গেল। নগদান হিসাব (সম্পদ) হ্রাস পেল।
অপরদিকে বিজ্ঞাপন বাবধ খরচ করার পর খরচ কমে গেল। অর্থাৎ ব্যয় হ্রাস পেল, মানে মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পেয়েছে।
বাকীতে পণ্য বিক্রয় ৭০০০ টাকা।
পণ্য বিক্রয় করল কিন্তু টাকা পায় নাই। টাকা পরবর্তী কোনো সময় পাবে, তাকে হিসাববিজ্ঞানে দেনাদার বলে। ঐ দেনাদারের কাছ থেকে নগদ টাকা(সম্পদ)পাবে। অর্থাৎ দেনাদার ও একটা সম্পত্তি। যেহেতু দেনাদার বৃদ্ধি পেয়েছে মানে সম্পদ (A) বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে বিক্রয় হিসাব টা হল আয়। একটা নতুন বিক্রয় করায় তার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আর আয় টা হল মালিকানা স্বত্বের ভিতর অন্তর্ভুক্ত তাই OE (মালিকানা স্বত্ব) বৃদ্ধি পেয়েছে।

No comments:

Post a Comment